এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম বলেন একটা ব্যাপার লক্ষণীয় এখানে একই দিনে তিনটি জায়গায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে
একটির পর একটি হত্যাকাণ্ড
এতে বোঝা যায় চক্রটি একই
অভিযোগ অস্বীকার করে সাকা চৌধুরী প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন যারা সাক্ষ্য দিচ্ছে তাদের সবাই বলেছে ঘটনা কেউ দেখেনি সবাই শুনেছে
প্রফুল্লর বিরুদ্ধে আমার বাবা প্রয়াত ফজলুল কাদের চৌধুরী হত্যার অভিযোগ আনতে পারি
মল্লপাড়ার হত্যাযজ্ঞ কুণ্ডেশ্বরী থেকে জগৎমল্লপাড়ার দূরত্ব কয়েক শ গজ মাত্র
নূতনচন্দ্র সিংহ হত্যার পর পাকবাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে যায় মল্লপাড়ায়
পাকসেনা আসার খবর শুনে অনেকে আগেই পালাতে  পেরেছিলেন
তাঁদেরই একজন সঞ্জিত সরকার
তিনি বলেন আমরা বড় সড়কের ওপাশে গিয়ে অবস্থান নিই
তখন বেলা ১১টা
পাড়ার পুরুষদের এনে জড়ো করা হলো জ্যোৎস্না প্রভা চৌধুরীর বাড়ির সামনে
সেখানে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে গুলি চালানো হয়
এরপর আমরা আর বাড়িতে ঢোকার সাহস করিনি
রাস্তা থেকে পালিয়ে যাই
জ্যোৎস্না প্রভা চৌধুরী এ ঘটনায় হারিয়েছেন স্বামীসহ সাতজনকে
তিনি সেদিন সাক্ষ্য দেন তদন্ত দলকে
জ্যোৎস্নার জা শেফালী চৌধুরী বলেন আমার তিন ভাশুর শ্বশুর শাশুড়িসহ সাতজনকে হত্যা করে হানাদারেরা
আমার দিদি জ্যোৎস্না গুলির শব্দে মাটিতে লাশের স্তূপের ওপর পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান শেফালী চৌধুরী
জ্যোৎস্না প্রভার বাড়িতে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল ৩৭ জনকে
লাশগুলো পড়ে ছিল উঠোনে
পরে পাশের পাড়ার মুসলিম ও বড়ুয়া সম্প্রদায়ের কিছু লোক এসে গর্ত খুঁড়ে এগুলো মাটিচাপা দেন
শহীদদের সম্মানে মল্লপাড়ায় ঢোকার মুখে তৈরি করা হয় স্মৃতিসৌধ
সেখানে লেখা রয়েছে শহীদদের নাম
তেজেন্দ্র নন্দী সমর চৌধুরী যতীন্দ্র সরকার প্রভাতী সরকার আরও কত নাম! 
শহীদদের স্বজনদের দুঃখ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিলেও তাঁদের স্বীকৃতি নেই
শহীদ যতীন্দ্র চৌধুরীর নাতি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের শিক্ষার্থী ঋষি সরকার গুরুতর অসুস্থ
তাঁর দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে
তাঁকে বাঁচানোর জন্য আকুতি স্বজনদের
শহীদ পরিবারের ছেলেটিকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন জানালেন সুজিতবরণ সরকার
ঊনসত্তরপাড়ায় নারীদের সামনেই গণহত্যা  
মিনতি মহাজন বাসন্তী ঘোষ ঊর্মিলা পাল—সবার বয়স ষাটের ঘরে
একাত্তরের ১৩ এপ্রিল কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সবাই বিধবা হন
৩৯ বছরের সেই স্মৃতি এখনো কাঁদায় তাঁদের
মিনতি তখন অন্তঃসত্ত্বা
তাঁদের বাড়ির পুকুরপাড়ে স্বামী শ্বশুরসহ সবাইকে এনে জড়ো করা হলো
৭০-৭৫ জনের মতো হবে
স্বজনকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন নারীরা
একসময় নারীদের আলাদা করে পুকুরপাড়ের পাশে বসানো হলো
তারপর লাইনে দাঁড়ানো পুরুষদের গুলি করা হলো
মারা গেলেন ৬৯ জন
গুলিবিদ্ধ হন মিনতির শাশুড়ি হরিলতা মহাজনও
পরে ১৯৯০ সালে তিনি মারা যান
মিনতি বলেন স্বামী হারানোর চার মাস পর জন্ম নেয় আমার ছেলে কাঞ্চন
অনেক কষ্টে তাকে মানুষ করেছি
কিন্তু ছেলেটা তার বাবাকে দেখেনি
আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই
তবে প্রত্যক্ষদর্শী নারীদের অনেকে এখনো ভয় পান হত্যাকারীদের নাম বলতে
ঊনসত্তরপাড়ার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন এখানে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ছিল
পাক  সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুসলিম লীগের নেতা-কর্মীরাই হিন্দুদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল
এই বিচার খুব দরকার ছিল
স্বামী হারানো বাসন্তী বিচারের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন
তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন ভগবানের কাছে আমি বিচার দিয়েছিলাম
এখন দেখি সরকার কী করে! 
ডালিম ভবনের নির্যাতন ক্যাম্প
আন্দরকিল্লা কাটা পাহাড়ের ডালিম ভবন ছিল একাত্তরে নির্যাতন ক্যাম্প
আল বদর-রাজাকারেরা এখানে ধরে নিয়ে আসত বাঙালিদের
তারপর নির্যাতন চালানো হতো
নারীনেত্রী নুরজাহান খানের স্বামী সাইফুদ্দিন খানসহ সাত স্বজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয় ওই ভবনে
তদন্ত দলের কাছে ডালিম ভবনে তাঁর স্বামীর ওপর নির্যাতনের কাহিনি তুলে ধরেন নুরজাহান
সাক্ষীরা এখানে নির্যাতনের জন্য জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীসহ কয়েকজনকে দায়ী করেন
একাত্তরে মীর কাশেম আলী ছিলেন আলবদর বাহিনীর কমান্ডার
ফয়স লেক রেলওয়ে হাউস 
ফয়স লেক পাহাড়ের ওপর রেলওয়ে লগ হাউস নামে একটি ভবনে চলত নারী নির্যাতন
পাহাড়তলী পাঞ্জাবি লেন আকবর শাহের মাজার এলাকা থেকে নারীদের ধরে এনে বর্বর নির্যাতন ও হত্যা করা হতো
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক গাজী সালেহ উদ্দিন তদন্ত দলকে বলেন মূলত অবাঙালি বিহারিরা রাজাকার ও আল বদরদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা নারী ধর্ষণ ও হত্যায় যুক্ত ছিল
প্রসঙ্গত পাহাড়তলী এলাকায় একটি বিহারি কলোনি আছে
এখানে এখনো অনেক বিহারি লোক বাস করেন
নির্যাতনের পর নারীদের হ্রদের জলে ফেলে দেওয়া হতো
পাহাড়তলী বধ্যভূমি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গাজী সালেহ উদ্দিনের বাবা আলী করিমকে হত্যা করা হয়েছিল পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে
একই দিন এখানে অসংখ্য বাঙালিকে ধরে এনে জবাই করা হয়
আমিনুল ইসলাম ও গোফরান ভূঁইয়া এ হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া দুই ভাগ্যবান
আমিনুল বলেন সেদিন পরিচিত এক বিহারির সহায়তায় আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম
যুদ্ধের পর এখানে হাড়গোড়ের স্তূপ ছিল
মানুষের দেহ নিয়ে শেয়াল কুকুরে টানাটানি করেছে
তিনি আরও বলেন যুদ্ধের পর আমি একটি মামলাও করেছিলাম
কিন্তু কিছু হয়নি
এখন যদি ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় তাহলে জাতি পাপমুক্ত হবে
ঠিক যেমনটি লিখে গেছেন শহীদ নূতনচন্দ্র সিংহ
স্মৃতিসৌধে লেখা তাঁর সেই বাণী—এ দেশ আমার/ স্বদেশ আমার উত্তরাধিকার/ মৃত্যু জেনে/ মৃত্যু মেনে রাখব অধিকার
বিশ্বকাপ ভেন্যুর ৮৭ কোটি টাকার কাজ পেতে দলীয় নেতাদের দৌড়ঝাঁপ
চট্টগ্রামে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভেন্যু উন্নয়নে ৮৭ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ পেতে সিটি করপোরেশনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে
গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা প্রতিদিনই করপোরেশনে দরপত্র নিতে দলবেঁধে ভিড় করছেন
এজন্য গত ২০-২৫ দিনের মধ্যে প্রায় দেড় শ নতুন ঠিকাদার সিটি করপোরেশনে তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দুটি খেলা চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা
এ জন্য সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ৮৭ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেয়
সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে
গত বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপে ৫২ কোটি টাকার ২৫৪টি লটে কাজের দরপত্র জমা নেওয়া হয়
এ জন্য চার হাজার ৮৮টি দরপত্র বিক্রি হয়
সর্বনিম্ন তিন লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই কোটি ১৭ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ রয়েছে
তবে ২০ লাখ টাকার কাজের সংখ্যাই বেশি বলে প্রকৌশলীরা জানান
এ সংখ্যা প্রায় ২০০
গণখাতে ক্রয়বিধির পিপিআর একটি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ঠিকাদারকে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে পাঁচ শতাংশের ওপরে অথবা পাঁচ শতাংশের নিচে দরপত্র জমা না দিতে বলেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ
এ ক্ষেত্রে একটি কাজের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকলে লটারির মাধ্যকে একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হবে
গণখাতে ক্রয়বিধির ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই কোটি টাকার নিচে যেকোনো দরপত্রের ক্ষেত্রে এ নিয়ম অনুসরণ করা যাবে
এ নিয়মের কারণে নতুন আসা দলীয় ঠিকাদারেরা আশা করছেন সবাই অন্তত একটি করে কাজ পাবেন
অভিযোগ আছে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘ ১৭ বছর মেয়র থাকায় পেশাদার ঠিকাদারদের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনেকেই সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারি করতেন
কিন্তু বিএনপি সমর্থক হিসেবে মোহাম্মদ মন্জুর আলম নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ছাত্রদল-যুবদলের নেতারা করপোরেশনে ভিড় করতে শুরু করেন
